ত্রিমাসিক জোড়, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
ত্রিমাসিক জোড়, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
আমাদের তাবলীগের কাজ গোছানো হওয়া দরকার। এর জন্য ত্রিমাসিক মাশোহারা সহ তাকাজা নিয়ে যে জামাতগুলি কাকরাইলে যাবে তার জিম্মাদার ঠিক করে যাওয়া। ত্রিমাসিক মাশোহারাতে সবাই একসাথে বসা, এক সাথে থাকা।
মাশোহারাতে সবসময় কম কথা বলার অভ্যাস করা। যত কম কথা বলা হবে ততই ভালো, রায় যত কম দেওয়া যাবে ততই ভালো। মাশোহারাতে আদবের প্রতি খেয়াল রাখা। আদবের সাথে এমন জায়গাতে বসার চেষ্টা করা যেখানে কেউ দেখবে না। আমার ভুল গুলি বোঝার জন্য এহসাস থাকতে হবে। আমার জিন্দেগীর ৩ ভাগের ২ ভাগ শেষ হয়ে গেল অথচ আমি আমার ভুল বুঝতে পারিনা। কোথায় কিভাবে কথা বলতে হবে, কোন সাথির সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে, কোন সাথীকে কেমন সম্মান করতে হবে এটা বোঝার এহসাস নাই। নিজামুদ্দীনের মাশোহারাতে দেখা যায় যে, প্রতিদিন একজন যেখানে বসেন সেখানে অন্যকেউ বসেন না। সবাই চুপ থাকেন, রায় চাইলেও সবাই রায় দেন না।
হুজুর সাঃ এর মজলিশে একদিন একটি প্রশ্ন করেছিলেন, সেখানে উপস্থিত কোন সাহাবী ঐ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। ওখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর জানতেন, কিন্তু আদবের কারণে তিনি তখন উত্তর দেননি। পরে বাড়িতে যেয়ে ওমর রাঃ কে বলেন যে আমি ঐ প্রশ্নের উত্তর জানতাম, কিন্তু আদবের কারণে বলিনি। এই ছিল আমাদের আকাবীরদের আদবের নমুনা।
এজন্য আমাদের এতায়াত ও এহতেমাত থাকতে হবে। বড় ছোট পার্থক্য থাকতে হবে যেন ছোটরা বড়দের সম্মান করে আর বড়রা ছোটদের কিভাবে আগে বাড়বে তা শেখায়। আমাদের মধ্যে আজ মানামানি নেই। এজন্য বড়দের মানতে হবে, সম্মান করতে হবে।
দ্বীন হলো অন্যের জন্য ভালাই চাওয়া। আমি যদি তাবলীগ করে অন্যের ভালাই না চাই তাহলে আমি আগে বাড়তে পারবো না। অন্য সাথী আগে বাড়ুক এটা আমাকে চাইতে হবে। জেলার মধ্যে অনেক যোগ্য সাথী আছে যাদের দিয়ে মেনত করানো যায়, কিন্তু আমি যখন রায় দিচ্ছি তখন তার পক্ষে দিচ্ছিনা। তাকে দিয়ে মেহনত করালে যদি সে আগে বেড়ে যায়, এধরণের হিংসা আমাদের মধ্যে কাজ করে। এটা মোটেই ঠিক না। দিলের হিংসা দূর করতে হবে, অন্যকে আগে বাড়িয়ে দিতে হবে।
আমাদের নবী সাঃ কারোর উপর কোন জিম্মাদারী দিলে তার কারগুজারী নিতেন, শুধু জিম্মাদারী দিয়েই ছেড়ে দিতেন না। একবার আমাদের নবী সাঃ পাহাড়ের উপর পাহারার জন্য একজন লোক চাইলেন। তখন একজন সাহাবী দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তোমার ঘোড়ায় চড়ে আসো, এরপর ঐ সাহাবী ঘোড়ায় চড়ে আসলেন। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তুমি সারা রাত এই ঘোড়ার উপর চড়ে পাহারা দিবে, জরুরত ছাড়া ঘোড়া থেকে নামতে পারবে না। এরপর ঐ সাহাবী ঘোড়া নিয়ে চলেগেলেন। সকাল হলে রাসূল সাঃ অন্যান্য সাহাবীদের রাঃ বলেন, তোমাদের ভাই কি ফিরেছে, সবাই বলল না, তখন তিনি বললেন, এখনই চলে আসবে, এরপর দূর থেকে একটি কালো ছায়া দেখা যাচ্ছিল, কাছে আসলে সবাই তাকে চিনতে পারলো। ফিরে আসলে আমাদের নবী সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি কি ঘোড়া থেকে নেমেছো? ঐ সাহাবী বললেন, আমি নামাজ ও জরুরতের জন্য ছাড়া ঘোড়া থেকে নামিনি। তখন রাসূল সাঃ বলেন, তোমার উপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে।
আমাদের দেশে কাজ আগে শুরু হয়েছে এবং আমাদের দেশ থেকে গিয়ে মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশে মেহনত হয়েছে। এছাড়াও আরো বহু দেশে আমরা মেহনত করে আল্লাহর সাহায্যে কাজ উঠিয়েছি। কিন্তু আজ তারা আমাদের থেকে অনেক উপরে উঠে গেছে। তারা নিজামুদ্দীনকে পুরাপুরি মানার চেষ্টা করেন বলেই ঐসকল দেশ আগে বেড়ে গেছে। আজ মালেশিয়া ইন্দোনেশিয়ার জামাত সারা পৃথিবীতে চলছে। প্রত্যেক দেশে এদের জামাতই বেশি। কম্বোডিয়াতে ৬০০ মসজিদের সাথে ৬০০ মক্তব আছে। এখানকার মুসলমানগণ শতভাগ তাবলীগ করেন। এবং শতভাড় নিজামুদ্দীনের সাথে আছেন। ওলামাকেরামও শতভাগ নিজামুদ্দীনের সাথে আছে। মৌরতানিয়া আরবদের দেশ। ওখানে ৮৫ ভাগ মানুষ আলেম ও হাফেজ। এবং প্রায় সবাই নিজামুদ্দীনের অনুসারী। ওখানে মানুষ প্রায় ৯০ ভাগ বয়ানে বসে। ওখানকার নিয়ম ফরজ নামাজের পর বয়ান হবে, তারপর সুন্নাত ও ওয়াজিব পড়বে। ওয়াসিফ ভাইদের জামাত আফ্রিকা গিয়েছিল, সেখানে ইজতেমা উপলক্ষে ৭ জায়গাতে জোড় হয়েছিল এবং প্রত্যেক জোড় থেকে এক হাজার করে জামাত বের হয়েছে। ওখানে সবাই নিজামুদ্দীনের সাথে মেহনত করেন। থাইল্যান্ডে ২৪ জামাত তৈরি বাংলাদেশে আসার জন্য। ভিসা হলে তারা চলে আসবেন। বাংলাদেশেও ৫২ টা জামাত বিদেশে যাওয়ার জন্য তৈরি আছে এবং ৩৫টা জামাত বিদেশে যাওয়ার নিয়তে দেশে চলছে। এজন্য আমাদেরও বেশি বেশি মেহনত করে বিদেশে ৫ মাস এর জন্য তৈরি হতে হবে। শতভাগ তিন চিল্লার সাথীদের বিদেশ সফরের জন্য তৈরি করতে হবে।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মুহতারাম ওয়াছিফ সাহেবঃ
সাহাবা রাঃ গণ বছরে ৪ মাস বা ৬ মাস আল্লাহর রাস্তায় মেহনত করতেন। এজন্য আমাদেরও সারা দুনিয়াতে সফরের জন্য তৈরি থাকতে হবে। সাহাবা রাঃ গণ দ্বীনের জন্য সারা দুনিয়াতে সফর করেছেন আর আমরা দুনিয়া কামাইয়ের জন্য সারা দুনিয়াতে যাচ্ছি। আমাদের দেশে অনেক ৩ চিল্লার সাথী আছে কিন্তু বিদেশ সফর করেছেন খুব কম, অথচ ঐ এলাকাগুলিতে অনেক মানুষ আছে যারা টাকা কামাইয়ের জন্য বিদেশে আছে। এজন্য আমাদের বিদেশ সফরের জন্য নিয়ত করতে হবে। সাহাবা রাঃ গণ আফ্রিকার মৌরতানিয়াতে গিয়েছিলেন। ঐ দেশটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে। ওখানে যেয়ে সাহাবা রাঃ গণ বলেছেন, যদি জানতে পারতাম যে, সাগরের ঐ পারে মানুষ আছে তাহলে সেখানেও দাওয়াত নিয়ে পৌছে যেতাম।
আমাদের একটি জামাত ঐ দেশে গেয়ে মেহনত করে এসেছে। খুশির কথা হলো, ঐ দেশের সমুদ্র তীরে যেয়ে আমাদের সাথীরাও ঐ কথা বলেছে যা সাহাবা রাঃ বলেছেন।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যুম্মা বাদ বয়ান- মুহতারাম ইউনুস শিকদার স্যারঃ
হেদায়েতের মাপকাঠি হলো মালের চেয়ে আমলকে বড় মনে করা, দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতকে বড় মনেকরা। আমলই আসবাব। কিন্তু আমরা দুনিয়ার বস্তুকে আসবাব মনেকরি। হযরত হাসান বসরী রহঃ এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হুজুর আমার পুত্র সন্তান চাই, তিনি বললেন, এসতেগফার করো। অন্য একজন এসে বলল, হুজুর আমার জমিজমাতে ফসল হয়না, তিনি বললেন, এসতেগফার করো। এরপর একজন বলল, হুজুর আমাদের এলাকাতে বৃষ্টি নাই তিনি বললেন, এসতেগফার করো। অন্য একজন এসে বলল, হুজুর আমার ধন-সম্পদের মধ্যে বরকত হয় না, তিনি বললেন, এসতেগফার করো। এভাবে ৪ জন ৪ রকম মাসায়েল নিয়ে আসলেন আর প্রত্যেককেই তিনি এসতেগফার করতে বললেন। এটা দেখে তার এক সাগরেগ বলেন, হুজুর আপনি সব সমস্যার সমাধানে এসতেগফার করতে বললেন কেন? তখন হাসান বরসী রহঃ বলেন, এটা আমার কথা নয়, এটা আল্লাহর কথা, এ কথা বলে তিনি কোরআনের ঐ আয়াতটি পড়ে শোনলেন। এবং বললেন, এসতেগফার করলেই আল্লাহ সন্তান দিবেন, বৃষ্টি দিবেন, ফসল দিবেন, সম্পদে বরকত দিবেন। এজন্য আমাদেরও বেশি বেশি এসতেগফার করতে হবে।
সর্ব অবস্থায় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। আল্লাহ সুবহানওয়াতায়লা বলেন, “হে রাসূল সাঃ আপনি আপনার পরিবার পরিাজনকে নামাজের হুকুম করতে থাকুন, আর রিজিকতো আমিই আপনাকে দিব।” এজন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার হয়ে যায়। সকল প্রাণী আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। পাখীরা সকালে খালি পেটে বাহির হয়, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করার কারণে তারা যখন ঘরে ফেরে তখন তাদের পেট ভরা থাকে। সকল সমস্যার সমাধান একমাত্র আল্লাহই করেন। তাই যখন আমাদের নবী সাঃ কোন সমস্যায় পড়তেন, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ পড়তে থাকতেন। একদিন রাসূল সাঃ এর ঘরে খাবার নেই, তখন রাসূল সাঃ মসজিদে এসে নামাজ পড়েন। নামাজের পর আয়েশা রাঃ কে জিজ্ঞাসা করেন যে কোন ব্যবস্থা হয়েছে, আয়েশা রাঃ বলেন না, তখন রাসূল সাঃ আবার মসজিদে এসে নামাজে দাঁড়ান। নামাজ শেষে আবার জিজ্ঞাসা করেন, এভাবে ৩ বার করার পর সমস্যার সমাধান হয়। আর একজন সাহাবীর গোলাম এসে বলল, হুজুর জমিতে পানি নেই, ঐ সাহাবী রাঃ নামাজে দাড়িয়ে গেলেন। নামাজ শেষে গোলাম কে বললেন, আকাশে কোন মেঘ দেখতে পাও, সে বলল না, এভাবে কয়েকবার নামাজ পড়ার পর ঐ গোলাম বলল যে, আকাশে পাখির ডানার মতো ছোটো এক খন্ড মেঘ দেখা যাচ্ছে। তখন ঐ সাহাবী রাঃ বলেন, আল্লাহ ঐ মেধের মধ্যেই বরকত দিবেন। পরে দেখা গেল যে ঐ মেঘ এসে শুধু ঐ সাহাবীর জামিতেই বৃষ্টি বর্ষণ করলো। ঐ বৃষ্টি যদি সাধারণ বৃষ্টি হতো তাহলে সব জমিনেই বর্ষন করতো, কিন্তু যেহেতু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ পাঠিয়েছেন, তাই শুধু ঐ সাহাবীর জমিতেই বৃষ্টি হয়েছে। সাহাবীদেরও একবার নামাজ পড়ে হয়নি সেখানে আমরা ২ রাকাত নামাজ পড়েই হতাস হয়ে বসে যাই।
মুমিন সম্পর্কে ভালো ধারণা করতে হবে। খারাপা ধারণা, দোষ খোঁজা, গোয়েন্দাগীরি করা বা তাজাচ্ছুস থেকে নিজেকে বাঁচানো। এটা আল্লাহ পছন্দ করেন না। একবার ওমর রাঃ রাতের বেলা এক বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি সেখানে ঘরের ভেতর থেকে গানের আওয়াজ পেলেন, তখন ওমর রাঃ বিষয়টি হাতেনাতে ধরার জন্য কাউকে কিছু না জানিয়ে পাচিল টপকিয়ে ভেতরে ঢোকেন। ভেতরে যেয়ে দেখেন যে এক ব্যক্তি মদ খাচ্ছে আর তার সামনে এক মেয়েলোক নৃত্য করছে। এ দৃশ্য দেখে ওমর রাঃ হতভম্ব হয়ে যান। তখন তিনি বলেন তুমি এতোবড় অন্যায় করছো! তখন ঐ ব্যক্তি সাহস করে বলল যে, হুজুর আমিতো একটি গোনাহ করেছি, আর আপনিতো ৩টা গোনাহ করেছেন, প্রথমে আপনি দরজা দিয়ে না এসে প্রাচীর টপকিয়ে এসেছেন, ২য়ত আপনি সালাম দেননি, তৃতীয়ত আপনি একজন মুসলমানের দোষ তালাশ করছেন। ওমর রাঃ ওখান থেকে ফিরে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করলেন। অনেক দিন পর ঐ ব্যক্তি ওমর রাঃ এর দরবারে হাজির হলে ওমর রাঃ তাকে ডাকেন এবং বলেন যে তোমার কান আমার মুখের কাছে আনো, এরপর তিনি বলেন আমি ঐ দিনের কথা কাউকে বলিনি, তখন ঐ ব্যক্তি ওমর রাঃ কে বলে যে, আপনার কানও আমার মুখের কাছে আনেন, এরপর বলে যে আমিও ঐ দিনেপর আর কখনও ঐ অপরাধ করিনি। ওমর রাঃ এর ঐদিনের তওবার কারণে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকেও তওবা করার তওফিক দেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় কারোর দোষ তালাস করা যাবে না। আর একটি ঘটনা, এক ব্যক্তি বসে আছে, তার সামনে মদের বোতল এবং পাশে একজন নারী বসা, এখন এই লোকটাকে দেখে এক ব্যক্তি বলছে যে, এ লোক মদ খাচ্ছে আর একজন খারাপ মেয়েলোক নিয়ে বসে আছে, এটা শুনে এক বুজুর্গ বলেন যে, ঐ বোতলে তেল আছে আর ঐ মহিলা তার স্ত্রী হতে পারে, এভাবে খারাপ কিছু দেখলেও তার মধ্যে ভালাই তালাশ করা। সবার সম্পর্কে ভালো ধারণা করা।
প্রত্যেক কাজে আল্লাহর নাম নেওয়া। আল্লাহর নামকে উচা করা। আজ আল্লাহর নাম উচ্চারণই করা হয় না, আমরা আল্লাহর নামকে অনেক নিচে ফেলেদিয়েছি। সবসময় দুনিয়ার আলোচনা, দুনিয়ার আসবাবের আলোচনা করা হয়। সব জায়গাতে দুনিয়া আর দুনিয়া। এজন্য আমরা আল্লাহর নাম বেশি বেশি বলে আল্লাহ কে উচা করবো। জামাতে চলার দ্বারাও আল্লাহর নাম উচা হয়, মসজিদ আবাদীর মেহনত হয়, মাদ্রাসা-মক্তব চালু হয়।
চতুর্থ হলো নিজের জরুরত কে পিছে রাখা। আল্লাহ তা’লা আমাকে যে মাল দিয়েছেন তা আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর জন্যই খরচ করা। যেমন, যাকাত দেওয়ার জন্য তারিখ ঠিক করে রাখা, যে প্রতি বছর আমি এই তারিখে যাকাত দিব। ঘরে যে অলংকারগুলি আছে তারও হিসাব করে যাকাতের হিসাব রাখা। যে ব্যক্তি খুশিমনে যাকাত দিবে সে ইমানের স্বাদ অনুভব করবে। হযরতজি মাওঃ সাদ সাহেব দা:বা: বলেন, যাকাত দেওয়ার জন্য যাকাতের স্থান খোঁজা, যেখানে সেখানে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। আমরা নামাজের পূর্বে ওজু করি। ওজুর জন্য আমরা যেমন পানি তালাস করি যাকাতের জন্যও তেমনি স্থান তালাস করতে হবে। ওজুর পানির জন্য আমরা পাক পনি খুঁজি, তেমনি যাকাতের জন্যও উপযুক্ত স্থান খুঁজে বেরকরতে হবে। যাকাত পারলে একটু বেশি করে দেওয়া, হিসাবের বাইরেও দেওয়া। যাকাত দেওয়ার সময় যাকাত গ্রহীতাকে ইজ্জত করা, এটা মনে করে যাকাত দেওয়া যে, এই ব্যক্তি না থাকলে আমি যাকাত আদায় করতে পারতাম না। মসজিদ আমাদের নামাজের স্থান আর নামাজ একটি ফরজ ইবাদাত। তেমনি যাকাতও একটি ফরজ ইবাদাত, আর স্থান হলো গরীব মানুষ, তাই তাদেরকেও ইবাদাতের স্থান হিসাবে সম্মান করা।
এসব আমল আমার মধ্যে এসে যাবে যখন আমি আল্লাহর রাস্তায় মেহনত করবো। বেশি বেশি মেহনত করতে হবে। যাদের ৩চিল্লা হয়ে গেছে তার বিদেশের জন্য তৈরি হবে। আল্লাহ আমাদের আমল করার তওফিক দিন। আমীন।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বাদ আসর কারগুজারীর আমল :-
মস্তুরাতের মেহনতের জন্য তালিমের পয়েন্ট বাড়ানো প্রয়োজন। প্রত্যেক হালকা, গ্রাম, থানা-ইউনিয়নে মস্তুরাতের পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য কোশেস করা। আগামী ত্রিমাসিক মাশোহারাতে যে সকল থানায় ১টা মস্তুরাতের পয়েন্ট আছে তারা আরো কমপক্ষে ২টি মস্তুরাতের পয়েন্ট বাড়ানোর কারগুজারী শোনাবেন। আগামী ত্রিমাসিক মাশোহারাতে কোন থানাতে ১টি অথবা ২টি মস্তুরাতের পয়েন্ট আছে এটা শোনা হবে না।
মস্তুরাতের কাজের দলিল হাদীস থেকেই পাওয়া যায়- একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ এর স্ত্রী জয়নব রাঃ আরো ২জন মহিলাকে সাথে নিয়ে রাসূল সাঃ এর কাছে যান এবং প্রশ্ন করেন যে, পুরুষরাতো সবসময় আপনার কাছে থাকে, ফলে তারা আপনার কাছে এসে দ্বীন শিখে কিন্তু আমরা মহিলারা কিভাবে দ্বীন শিখবো। তার এই কথা শুনে রাসূল সাঃ বলেন, তোমার নাম কী? তখন মহিলা সাহাবিয়া বলেন, আমার নাম জয়নব। রাসূল সাঃ বলেন, মক্কায়তো অনেক জয়নব ছিল, তুমি কোন জয়নব? তখন তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর স্ত্রী। তখন রাসূল সাঃ বলেন, আমি এই মহিলার মতো উত্তম প্রশ্নকারী আর কখনও দেখিনি। এরপর রাসূল সাঃ আয়েশা রাঃ এর ঘর নির্ধারণ করে দিলেন এবং সপ্তাহে ১দিন সকল মহিলারা এই ঘরে আসতো, আর রাসূল সাঃ তাদের উদ্দেশ্যে বয়ান করতেন।
জেলার সাথীরা রোজানা মাশোহারার নামে বসবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত জেলার সাথীরা রোজানা বসবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ জেলার কাজ আগে বাড়বে না।
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল-পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মাদ্রাসা, মহিলা কলেজ এসকল প্রতিষ্ঠানে মেহনত করা। চট্টগ্রামে তাবলীগের সাথীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভর্তিকৃত ছাত্রদের কাছে মেহনত করেন। ফলে তারা প্রথম থেকেই কাজের সাথে জুড়ে যায়। এছাড়া মহিলা হোস্টেলে কিভাবে মেহনত করতে হবে তা স্থানীয় সাথীরা ফিকির করবেন।
জেলার শুরা হযরতগণ জামাত বানিয়ে প্রত্যেক থানাতে ৩দিনের জন্য যেয়ে গাসত করে করে ঐ থানার সকল ৩ চিল্লা, ১ চিল্লা, তিন দিন লাগানো সাথী, সালা লাগানো ওলামা এবং সাধারণ সাথী যারা দাওয়াতের মেহনতের সাথে জুড়ে আছে, তাদের নিয়ে একটি জেড়ের ব্যবস্থা করবেন। এবং বয়ান করে ৩চি, ১চি, ১ সাল, তকমিলি সাল, ২য় সাল, বিদেশে ৫মাস, মস্তুরাত সহ বিদেশ ২ মাস, মস্তুরাতের ১ চি, ১০ দিন, ৩ দিনের জন্য তাসকীল করে আল্লাহর রাস্তায় বাহির করবেন।
জয়পুর হাটে এভাবে মেহনতের পরে যখন ইজতেমা শুরু হল, তখন দেখাগেল যে, প্রথম দিনই ৩৮ টা জামাত তাসকীল হয়ে গেল, এমন অবস্থা যে তাসকীলের কামরায় জায়গা হয়না, তখন ঐ জামাতগুলিকে হেদায়েত দিয়ে সফরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঐ ইজতিমা থেকে মোট ৫৫টি জামাত বাহির হয়েছিল। আমাদের খুরুজের জন্য এধরণের মেহনত খুবই জরুরী।
কোন কোন জেলা সব তবকার মধ্যে মেহনত শুরু করেছেন? ইজতেমার তারিখ ঠিক হয়েগেছে। এখন থেকেই সব তবকার মধ্যে মেহনত শুরু করতে হবে। এর জন্য তবকাওয়ার জামাত বানাতে হবে।
শতভাগ মসজিদে মসজিদ আবাদীর মেহনত চালু করা। এর জন্য আমরা কি করছি?
প্রত্যেক জেলার মারকাজের খাতার মধ্যে জেলার সকল ওলামা কেরামের নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং তাবলীগে কে কত সময় লাগিয়েছে তা লিখে রাখতে হবে।
গত আগস্টে বধিরদের ৩ হাজারের বেশি মজমা হয়েছিল। আগে কখনও এতো বধিরদের একসাথে পাওয়া যায়নি। এমনকি ইজতিমাতেও এতো বধির আসেনাই। জেলার বধিরদের নিয়ে জেলাতেও একটি জোড় করা। বিদেশের জন্য তাসকিল করা। ২জন বধির হাবশার জন্য তাসকিল হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনতো কানেও শোনে না, চোখেও দেখে না। তাদের প্রথমে নেপাল, ভুটান এদিকে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা বলেছে, না আমরা দূরের সফরে যাবো। আমাদের জেলাতেও এভাবে তাসকিল করা। মস্তুরাতসহ বধিররেদ জামাত বাহির করা।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বাদ মাগরীব: মাওঃ মোশারফ সাহেব:-
২টা কাঠের টুকরা মিলাইবার জন্য পেরেক ব্যবহার করা হয়।, ২টা কাগজ জোড়া লাগানোর জন্য আঠা ব্যবহার করা হয়, একটা ইটের সাথে আর একটা ইটের জেড়া লাগানোর জন্য সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়, এভাবে প্রত্যেকটা জিনিস একটার সাথে আর একটা জোড়া লাগানোর জন্য বিভিন্ন আসবাব ব্যবহার করা হয়। এটা মানুষের বানানো পদ্ধতি। আর মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরি করার জন্য বা মিলানোর জন্য যে পদ্ধতি তা হলো দ্বীনের মেহনত। আর এটা আল্লাহর বানানো পদ্ধতি। তাই একে অন্যের সাথে সম্পর্ক করা, একে অন্যের ভালাই চাওয়া, ভালাই পছন্দ করা, এটা হলো দ্বীন। আর দ্বীন যদি না থাকে তাহলে একে অন্যের সাথে যে সু সম্পর্ক তা থাকে না, অন্যের ভালাই ভালো লাগে না, অন্যের তরক্কি বা উন্নতি ভালো লাগে না। যখন এরকম হয় তখন তার বয়ান ভালো হলেও আমার কাছে তা ভালো লাগে না। যখন আমাদের মধ্যে দ্বীন থাকবে না, একে অন্যের মধ্যে মহাব্বত ভালোবাসা থাকবে না, তখন আল্লাহর সাহায্য আসবে না। এজন্য যে কোন মূল্যে আমাদের মধ্যে জোড়-মিল-মহাব্বত পয়দা করতে হবে। তার জন্য কোরবানী দিতে হবে, জজবার কোরবানী, রায়ের কোরবানী ইত্যাদি। এজন্য আমাদের রায় ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে। আর জিম্মাদারদের জন্য জরুরী হলো ফয়সালা আমানতদারীর মাধ্যমে হতে হবে, যেন ফয়সালার পর সাথীদের মধ্যে এখতেলাফ না হয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক দেখে রায় দেওয়া যাবে না, ফয়সালাও দেওয়া যাবে না। এটা বহুতবড় খেয়ানত। যার মধ্যে আমানতদারী নাই তার ঈমান নাই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে আমরা ফয়সাল বানাই। এটা করা যাবে না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে আমরা কারোর পক্ষে রায় দিব না, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কারোর পক্ষে ফয়সালাও দিব না, কাউকে আগে বাড়ানোর চেষ্টাও করবো না। ওমর রাঃ এজিদ (রহঃ) কে জিম্মাদারী দিয়ে বললেন, আমি তোমার ব্যপারে একটা জিনিস ভয় পাচ্ছি যে, তুমি কাউকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে জিম্মাদারী দাও কিনা, এটা করো না, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কারোর পক্ষে ফয়সালা করো না, আগে বাড়িয়ে দিও না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে যদি কাউকে মিম্বরেও উঠানো হয়, সে ঐ স্থান ধরে রাখতে পারে না। এজন্য দরকার এখলাস ও মাশোহারা। প্রত্যেক কাজের জন্য মাশোহারা করতে হবে। এখলাসের সাথে এই দাওয়াতের মেহনত করতে হবে, যাতে কাজের মধ্যে আগ্রাজ না আসে। মশহুর হওয়ার জন্য নয়, আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য মেহনত করতে হবে। আর এই মেহনতের মধ্যে অন্য কেউ সময় দিল কি দিল না তা না দেখে আমি সময় দিব। মশহুর হতে চাইলে অন্যের উপর দাবী আসে, শুরা হওয়া দাবী, জিম্মাদার হওয়ার দাবী, মিম্বরে ওঠার দাবী। এটা করা যাবে না। মানুষ যখন নিজেকে দামী মনে করে তখন সে অনেক কিছু দাবী করে বশে। যখন কেউ মনে করবে যে, মেহনতে আমার দরকার, আমাকে না হলে চলবে না, তখন সে এই মেহনতের উপযুক্ত থাকবে না। যে সকল কাজে ভয় আছে, সে সকল কাজ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে, যেমন- ১. মিম্বরে বসা, ২. খুসুসী গাস্ত করা, ৩. মাশোহারা। যারা এই কাজ বেশি বেশি করবে তার দিল নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সাবধানে এই ৩ কাজ করতে হবে। মাশোহারাতে বসতে হবে সাবধানে, সতর্কতার সাথে, মাশোহারাতে বেশি কথা বলার মধ্যে হেফাজত নাই, বেশি রায় দেওয়ার মধ্যে হেফাজত নাই, রায় আমানদারীর সাথে দিতে হবে, রায় আদবের সাথে দিতে হবে, কারণ মাশোহারার মধ্যে পুরা উম্মতের হেদায়েত আছে। তাই খেয়ানতের সাথে রায় দিয়ে উম্মতের ক্ষতি করা যাবে না। যারা এটা করতে তাদেরকে আল্লাহ মেনহত থেকে সরিয়ে দিবেন। এটাকে মৌমাছির সাথে তুলনা করা হয়েছে, মৌমাছিদের একটা নিয়ম আছে যে, যদি কোন মৌমাছি মধু বাদে কোন ক্ষতিকারক কোন কিছু মুখে করে নিয়ে আসে তাহলে তাকে মৌচাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না, ওখানে যে প্রহরী আছে তারা প্রথমে তাকে চেক করে, যদি মধু হয় তাহলে ছেড়ে দেয় আর যদি মধূ না হয় তাহলে তাকেতো ঢুকতে দেয়না, চলেও যেতে দেয়না, তাকে ধরে সাথে সাথে কতল করে দেয়। তাই মৌচকের নিচে অনেক মাথা কাটা মৌমাছি দেখা যায়। যাদের লেনদেন, কথাবার্তা, আখলাখ ঠিক নেই, তার উপর কারোর আস্থা থাকে না, যদিও সে শুরা-জিম্মাদার হোক না কেন। আর সোয়াল করা যাবে না, সোয়ালের ভানও করা যাবে না, বিশেষ করে জিম্মাদার হয়ে এটা মোটেই করা যাবে না। সোয়াল করতে হবে আল্লাহর কাছে। আল্লাহর কাছে চাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আর সাথীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। নিজের গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। আমি এমন কাজ করছি বা এমন কথা বলছি বা এমন ফয়সালা দিচ্ছি যে সাথীরা পিছনে অনেক সমালোচনা করছে, এটা করা যাবে না, যা কিছু করতে হবে তা মাশোহারার মাধ্যমে করতে হবে এবং বিচক্ষণতার সাথে কথা কলতে হবে। সমাজের মধ্যে যদি আমার গ্রহণযোগ্যতা না থাকে তাহলে মানুষ আমার কথা শুনবেনা। এজন্য ব্যক্তিগত জীবন থেকে গোনহ ছাড়তে হবে। ব্যক্তিগত জিন্দেগীতে যদি গোনাহ করে তাহলে আল্লাহ অন্যের ভেতর আমার প্রতি ঘৃণা পয়দা করে দেবেন। তাই গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য ইনফিরাদি আমল এবং দাওয়াত বাড়িয়ে দিতে হবে। একাকী গোনাহ ছাড়তে হবে। ইনফিরাদি জিন্দেগীতে দোয়া করার অভ্যাস করতে হবে। ইজতেমায়ী দোয়ার চেয়ে ইনফিরাদি দোয়ার শক্তি বেশি। তাই অন্যের কাছে দোয়া না চেয়ে নিজে দোয়া করার অভ্যাস করতে হবে। সকল নবীদের ২টা কাজ ছিল, দাওয়াত ও দোয়া। কোন সমস্যা আসলে তাঁরা দোয়ার দ্বারা সমাধান করতেন। তাই আমরাও দুনিয়ার কোন মানুষের বা আসবাবের পাওয়ার দেখাবো না, সমস্যা হলে দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য নিব। প্রত্যেক তাবলীগওয়ালাদের দিলের শক্তি আর দোয়ার শক্তি বাড়াতে হবে। যে কোন সমস্যা আসলেই আল্লাহর দিকে মোতাওয়াজ্জ হতে হবে। দোয়া করতে করতে এমন একদিন আসবে যে, সে যে দোয়া করবে সেটাই কবুল হবে। দোয়া হলো নবীদের জিন্দেগী। মারিয়াম আঃ এর দেখভাল করারা দায়িত্ব ছিল যাকারিয়া আঃ এর। যাকারিয়া আঃ বায়তুল মোকাদ্দাসের একটি কামরাতে মারিয়াম আঃ কে রাখেন। যখন বাহিরে যেতেন তখন মারিয়াম আঃ কে বাহির থেকে তালা বন্ধ করে চাবি নিজের কাছে নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি যখন ফিরতেন তখন নিজ হাতে তালা খুলতেন। যাকারিয়া আঃ যখন বাহির থেকে এসে তালা খুলতেন তখন দেখতেন মারিয়াম আঃ এর হাতে তাজা আঙুরের থোকা। তিনি আশ্চর্য হয়ে মারিয়াম আঃ কে জিজ্ঞাসা করতেন, তুমি এটা কোথায় পেলে, এখনতো আঙুরের মৌসুম না, মারিয়াম আঃ বলতেন, আমাকে এটা আল্লাহ তা’লা পাঠিয়েছেন। তাই আমরা জিম্মাদারীর মধ্যে ভালাই দেখবো না, ভালাই একমাত্র আল্লাহর তরফ থেকে আসবে। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ইমাদার কোন কিছুর মধ্যে দামী হওয়া দেখবে না। দুনিয়ার আসবাব বাড়াবে না। আজ দিনদার মানুষের ঘরে গেলে আশ্চর্য লাগে, ঘরে এতো আসবাব, সে এই ঘর থেকে বের হবে কিভাবে। তাই নামাজ ঠিক করতে হবে, কুরআন তেলাওয়াত ঠিক করতে হবে, দান সদকার এহতেমাম করতে হবে। নফল রোজা, তাহাজ্জুতের এহতেমাম করতে হবে। জাকারিয়া আঃ মারিয়াম আঃ এর অমৌসুমের ফল দেখে আল্লাহর কাছে দোয়া করা শুরু করলেন যে, হে আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে নেক সন্তান দান করো। আল্লাহ সাথে সাথে তার দোয়া কবুল করলেন, ছেলে সন্তান দান করলেন, এবং তার নামও ঠিক করে দিলেন। এজন্য দাওয়াত ও দোয়ার শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। গোনাহের দ্বারা আমল দুর্বল হয়ে যায়, দিল মুর্দা হয়ে যায়। ঘরের পরিবেশে বেশি উঠাবসা করলেও দিল মুর্দা হয়ে যায়। এজন্য বেশি বেশি মসজিদের পরিবেশে সময় দিতে হবে। তাহলে আল্লাহ তা’লা তার উপর রাজি হয়ে যাবেন। মসজিদ মুত্তাকীদের ঘর। এজন্য আল্লাহর কাছে মসজিদ আবাদ করতে পারার জন্য তাওফিক চাইতে হবে। নিয়ত করতে হবে ২৪ ঘন্টা মসজিদ আবাদ করার জন্য। বরকত মসজিদ থেকে আসে, অন্য কোথা থেকে আসে না। যারা মসজিদ আবাদ বেশি বেশি করবে আল্লাহ তা’লা তার ঘরের মধ্যে, ব্যবসার মধ্যে, চাকুরীর মধ্যে, ক্ষেতখামারের মধ্যে বরকত দিবেন। এর জন্য দাওয়াতের কাজ বেশি বেশি করে করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন দাওয়াতের মেহনত করার জন্য। আমাদেরকে দাওয়াতের মেহনতের জিম্মাদারী দেওয়া হয়েছে। নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত এর জন্য সময় ঠিক করা আছে কিন্তু দাওয়াতের জন্য কোন সময় নির্দিষ্ট নেই। তাই সর্ব অবস্থায় দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকতে হবে। আল্লাহর রাস্তায় বাহির হওয়ার জন্য কোন ওজর পেশ করা আল্লাহ পছন্দ করেন না, সব জিম্মাদার সাথীরা ওজর পেশ করেন। কিন্তু সমস্যা সমাধান আছে আল্লাহর কাছে। আল্লাহই সকল সমস্যার সমাধান করে দেন। এজন্য কোন ওজর সামনে রাখা যাবে না। শয়তান সবসময় অভাবের ভয় দেখায়, আর গোনাহের দাওয়াত দেয়। শয়তান বোঝায় যে, এখন তাবলীগে গেলে ব্যবসার ক্ষতি হবে কিন্তু আসলে ক্ষতি হবে না। এটা শয়তানের ধোকা। তাই বিনা ওজরে মেহনত করতে হবে। দাওয়াতের কাজ করতে যেয়ে যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে শুকরিয়া করতে হবে, বাবা, মা এর জানাজা যদি নাও পড়তে পারি, আর এর জন্য মানুষ কঠিন কঠিন কথা বলে, এর জন্যও খুশি হওয়া যে আল্লাহর কাজ করতে যেয়ে এটা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, আমি বান্দাকে ৫ লাইনে পরীক্ষা নেই, ভয় দিয়ে, ….। আর ৩ লাইনে কমি দিয়ে পরীক্ষা নেই। এই ৩ লাইনের কমি হলো- মালের কমি, জমি-ফসলের কমি, সম্পদের ক্ষতি। এজন্য বিনা ওজরে আল্লাহর রাস্তায় বাহির হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। ঘরে অভাব, না খেয়ে আছে, অভাব, ফসল কাটতে হবে, ফসল কাটলে সকল অভাব দুর হবে। যারা তাবলীগ করতে যেয়ে দুনিয়ার কষ্ট, বিবি-বাচ্চার কষ্ট, ব্যবসার কোরবানী সহ্য করতে না পারে আল্লাহ তাকে দিয়ে মেহনত করাবেন না। এজন্য জান-মাল দিয়ে জান-মাল এর ক্ষতি করে হলেও মেহনত করতে হবে। এর জন্য কোরবানী ও মোজাহাদা করতে হবে। আজ আমাদের অবস্থা এরকম যে, আমার নামাজ, তাজাজ্জুত, জিকির ইত্যাদির ক্ষতি হলে কষ্ট লাগে না, অথচ দুনিয়ার সম্পদের ক্ষতি হলে কষ্ট লাগে। দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে অনেকে গর্ব করে, বলে যে আমার ছেলে অথবা মেয়ে বড় চাকরী করে। এর জন্য খুশি হই। দুনিয়ার কোন কারণে খুশি হয় দুনিয়াদাররা। এদের মধ্যে দ্বীনের বাতাসও লাগেনি। আর যদি ছেলে হাফেজ হলে খুশি লাগে, নামাজ পড়লে খুশি লাগে, তাহাজ্জত পড়তে পারলে খুশি লাগে এগুলি দ্বীনদারির লক্ষণ। ছেলেদের মাদ্রাসাতে দেন, উস্তাদদের খেদমত করতে বলেন। দ্বীনের কাজের জন্য বাবা-মা এর কষ্ট হলেও দ্বীনের কাজ ছাড়া যাবে না। এক মা তার ছেলেকে বলছেন যে, তোর মতো উপযুক্ত ছেলে থাকতে আমাদের কষ্ট হয়, তুই কোন কাজ করিস না, আমরা আল্লাহর কাছে নালিশ করবো, ছেলে বলে নালিশ করেন, আপনারা যার দরবারে নালিশ করবেন আমি তার কাজ করি, আমি চাই যে, সারা গ্রামের মানুষ যেন নামাযী হয়ে যায়। আবু আইয়ুব আল আনছারী রাঃ একজন জলিল কদর সাহাবী ছিলেন। তিনি দ্বীনের মেহনতের জন্য তার জান-মাল সব খরচ করে দিয়েছিলেন। রাসূল সাঃ মাঝে মাঝে তার কাছে মেহমানদারী নিতেন। এরপর তিনি যখন অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন, তখন তার ছেলেরা বলল যে, আপনিতো অনেক সফর করেছেন, এখন অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় যেতে হবে না। তখন তিনি বলেন কোরআনের আয়াততো আমাকে ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। তিনি সফরে বের হলেন এবং আল্লাহর রাস্তাতেই শাহাদাত বরণ করলেন। এজন্য প্রত্যেককে সফরের জন্য নিজেকে তৈরি রাখা। সাহাবা রাঃ এর কোরবানীর কারণে আল্লাহ কঠিন দিলের কাফেরদেরও ইসলাম গ্রহণের তওফিক দিয়েছেন। এজন্য আমাদেরও কোরবানীর উপর উঠতে হবে। আজ আমরা মওসুম দেখে সময় লাগাই। এটা করলে হবে না, কোরবানীর উপর উঠতে হবে, মৌসুমের সময় বা অন্য সময় যখনই বলে তখনই বাহির হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। বসে বসে ঘাম খরচ করলে হবে না, কদমে কদমে ঘাম ঝরাতে হবে। সাহাবা রাঃ দের দ্বীন জিন্দার জজবা ছিল, তাই তাঁরা বিবি-বাচ্চা রেখেই আল্লাহর রাস্তায় চলে যেতেন। জাফর রাঃ এর বিবি ছিলনা, তিনি নিজেই ৩টা বাচ্চাকে দেখভাল করতেন, তিনি এই ছোট ছোট ৩ বাচ্চাকে রেখে আল্লাহর রাস্তায় চলে যান এবং শহিদ হয়ে যান। ফিরে এসে রাসূল সাঃ তাদের কাছে যান এবং বলেন, এখন থেকে আমি তোমাদের বাবা আর আয়েশা তোমাদের মা, এরপর ঐ বাচ্চারা বলে যে, আমরা হুজুর সাঃ এর সামনে তার দুই নাতির সাথে খেলতাম, যখন খেলা শেষ হতো তখন তিনি তার নাতিদের কোলে না নিয়ে আমাদের তিন জনকে কোলে নিতেন। এখলাসের সাথে কাজ করতে হবে, কোন এখতেলাফ থাকা যাবে না। কোন কিছুর দাবীদার হলে হবে না। আমি সব আমল করছি কিন্তু আমার উপর জিম্মাদারী আসছে না, এটা আমার হেফাজতের জন্য। যে কোন ব্যক্তি বয়ান করুক আমি সেই বয়ানে বসবো। উমুমী বয়ান, উমুমী গাস্ত এর মধ্যে আমাদের হেদায়েত। যদি কথা কাটাকাটি হয়, তাহলে আমাদের উপর থেকে আল্লাহর সাহায্য উঠে যাবে। উহুদের যুদ্ধে রাসূল সাঃ উপস্থিত থাকার পরও এখতেলাফের কারণে আল্লাহর সাহায্য উঠে গিয়েছিল। আপোশে ইজতেমাইয়াত না থাকলে আল্লাহর সাহায্য আসবে না। আমি এমন ভাবে কথা বলবো যেনা সাথীদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। সবচেয়ে খারাপ হলো যে, আমি এমন কথা বললাম বা রায় দিলাম বা ফয়সালা দিলাম যে সাথীদের মধ্যে ঝগড়া বা এখতেলাফ তৈরি হয়ে গেল। এক ফয়সাল অন্য ফয়সালের রায় বদলায়ে দেয়। এটা ঠিক না। এক হন, একটা ফয়সালা দিয়েছে সেটাই বহাল রাখেন। বড়দের মেনে মেনে চলবে। আল্লাহ আমাদের আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তালিম:
তালিম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা। ইন্ডিয়াতে এক জায়গাতে একটা মজমা চলছিল, হয়তোবা কোন ছোট ইজতেমা ধরণের হবে, মজমাটি খোলা ময়দানে হচ্ছিল, হযরতজি মাও. সাদ সাহেব দা: বা: ময়দান ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন, তিনি দেখলেন যে, একটি মজমতে তালিমের মধ্যে জিহাদ ও জাহান্নামের হাদীস পড়া হচ্ছিল অথচ চার আশে পাশের এলাকার মানুষ ছিল গায়রে মুসলিম। তখন হযরতজি বলেন, তালিম করনেওয়ালার বোঝা উচিত যে কোন মজমাতে কোন তালিম করা দরকার।.....(বয়ান আরো ছিল কিন্তু আমি লিখতে পারিনি)।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মাও: আব্দুল্লাহ:-
আল্লাহ যখন জিব্রাইল আঃ কোন অহি দিয়ে পাঠাতেন তখন একা পাঠাতেন না। আরো ফেরেশতা সাথে পাঠাতেন যেন যে কথা পাঠানো হয়েছে তা কম বেশি না হয়ে যায়। হযরতজি মাও. সাদ সাহেব দা: বা: সবাইকে না নিয়ে কোন ফয়সালা করেন না। একদিন এক মাশোহারার পর কিছু সাথী চলে যায়। এরপর আরও একটা তাকাজা আসলো, সবাই বলল, হযরত ফয়সালা করে দেন, কিন্তু তিনি ফয়সালা করলেন না, তিনি যেসকল সাথীরা চলে গেছে তাদের ডেকে পাঠালেন, তারা আসলে এরপর ফয়সালা করলেন। তাই আমরাও আফরার কোন ফয়সালা করবো না। একবার বাংলাদেশের কোন ব্যক্তি বা জেলার বিষয়ে মাও. জামশেদ সাহেবের কাছে মাশোহারা পেশ করা হয়, তিনি তখন বাংলাদেশে সফর করছিলেন তখন তিনি একা একা ফয়সালা না করে মাশোহারার তাকাজা লিখে নিয়ে নিজামুদ্দীনে চলে যান, বলেন ফয়সালা নিজামুদ্দীন থেকে হবে। তেমনি ভাবে কাকরাইলের মুরব্বীগণও কোন জেলায় যেয়ে ফয়সালা দেন না, কাকরাইলে ফিরে যেয়ে মাসোহারা করে ফয়সালা জানিয়ে দেন। মাশোহারা, মাশোহারার তাকাজা, মাশোহারার ফয়সালা এ নিয়মেই হবে। রাসূল সাঃ সাহাবী রা: দের নিয়ে যখন মাশোহারা করতেন ঐ মাশোহারা মানার কারণে সাহাবীগণ যে নেকি পেতেন এভাবে যদি আমরা মাশোহারা করি তাহলে ঐ পরিমাণ নেকি আমরাও পাবো। তাই মাশোহারা করতে হবে সবাইকে সাথে নিয়ে। কোন জায়গাতে যখন যাওয়া হয় যেমন কোন থানা বা ইউনিয়ন, তখন সকল সাথি যায় না, প্রতিনিধি হিসাবে কয়েকজন যায়, আর মাশোহারাতেতো সবাই উপস্থিত থাকে, এখানে তাকাজা উঠিয়ে সবার মত নিয়ে ফয়সালা করা।
মাশোহারা খুবই গরুত্বপূর্ণ আমল। এটা যত সহি হবে মাশোহারা করনেওয়ালাগণ তত বেশি নেকি পাবেন। আর ইসরার না করা। হযরতজি মাও. সাদ সাহেব বলেন, নিজের রায়কে ভুলে যাও। যে ফয়সালা হবে সেটার ওপরই জমতে হবে। কাকরাইল থেকে ফয়সালা আসবে তা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এ নিয়ে মাশোহারা করাতে হবে, কোন ফয়সালা বাদ দেওয়ার জন্য, বা এটােএখন করবো আর এটা এখন করবো না এরকম কোন কোন মাশোহারা করা যাবে না। মাশোহারাতে রায় দিতে যেয়ে অনেক সময় বয়ান হয়ে যায়, এটা করা যাবে না, মওজুর উপর থেকে মুখতাসার রায় দেওয়া।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মাশোহারার তাকাজা ও ফয়সালা সমূহ-
১. শত ভাগ ৩ চিল্লার সাথীদের বিদেশ সফর কিভাবে হতে পারে?
ফয়সালা: মসজিদ ওয়ার ফিকির করা, জেলা মাশোহরাতে ১নং উমুর রাখা, ত্রি-মাসিক মাশোহারাতে ফিকির করা।
২.
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বিদেশী জামাত সম্পর্কে হেদায়েতঃ
জেলাতে যখন বিদেশী জামাত পাঠানো হয় তখন তার যথাযথ কদর করা চাই। কিন্তু ইতিপূর্বে দেখাগেছে যে, বিদেশী জামাত পাঠানোর পর এমন জায়গাতে রোখ দেওয়া হয়েছে যে, ঐ মসজিদে কোন সাথী নাই, এমনকি রাহাবারও নাই। অনেক সময় দেখা যায় বিদেশী জামাত দেওয়া হয়েছে এমন মসজিদে যেখানে টয়লেট রাস্তার ঐ পারে, যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই। বিদেশী মেহমানকে বদনায় পানি ভরে যেতে হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখ জনক। এমন মসজিদে বিদেশী জামাত দেওয়া যেখানে সব ব্যবস্থা সুন্দর আছে। বিদেশীরা টয়লেটে হাই কমোড ব্যবহার করে। সেদিকটাও বিবেচনা করা। ঢাকাতে এক আরব জামাত এসেছিল, তারা যাওয়ার সময় বলেন যে, আমি ইঞ্জিঃ আব্দুল মুকিত সাহেবের সময় থেকে তোমাদের দেশে সময় লাগাই, কিন্তু এবার আমাকে যত কষ্ট দেওয়া হয়েছে তা আগে কখনও পাইনি। এজন্য বিদেশী জামাতের তাকাজা পুরা জরুরী, করতে না পারলে জামাত নেওয়া আগেই জানিয়ে দেওয়া। বিদেশী জামাত চালানোর ক্ষেত্রে বড়রা যে রাহাবারি দিয়েছেন তা নিচে দেওয়া হলো-
১. বিদেশী জামাতের নুসরতের জন্য ২/৩ জন সাথী বিছানা নিয়ে জামাতের সাথে থাকা।
২. জামাতের সাথীদের ভাষার প্রতি লক্ষ্য করে যে সকল সাথি ঐ সাথীদের ভাষা জানে সেসকল সাথীদের নিয়ে মোজাকারা ও গাস্ত করানো।
৩. এক এক দিন এক এক বিষয়ে মোজাকারা করা। যেহেতু তারা আমাদের দেশে শিখতে আসে তাই মোজাকারা করাটা খুবই জরুরী।
৪. যেসকল মসজিদে ২ পক্ষের আমল হয় এধরণের মসজিদে বিদেশী জামাত না পাঠানো।
৫. মেহনতের জন্য সবসময় জামাতের সাথে থাকা। সাখে না থাকলে দেখা যায় যে, অন্য পক্ষের সাথীরা এসে বিদেশী সাথীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে, ফলে বিদেশী সাথীরা অসন্তুষ্ট হয়ে ঐ মসজিদ থেকে চলে যেতে চায়।
৬. বিদেশী সাথীরা নতুন কাজ শেখার জন্য আমাদের দেশে আসে। এজন্য তাদের নিয়ে মোজাকারা করতে হবে। এক এক দিন এক এক বিষয় নিয়ে মোজাকারা করতে হবে। জামাতের বিদেশী সাথীদের ভাষা জানে এমন সাথীকে দিয়ে মোজাকারা করানো।
৭. জামাতের রাহাবারির জন্য গুরুত্ব দেওয়া। এক্ষেত্রেও সাথীদের ভাষা জানা সাথীকে দিয়ে রাহাবরি করানো।
৮. বিদেশী জামাতে মেহমানদারীর ফিকির করা, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সাথীরা কোন ধরণের খাবার পছন্দ করে, সেটাই তাদের খাওয়ানো। দেখা যায় যে, আমরা যে খাবার পছন্দ করি তাদের জন্যও সেধরণের খাবার তৈরি করি, কিন্তু বিদেশী মেহমান ঐ খানা খেতে পারে না। বিশেষ করে ঝাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। বিদেশীরা সাধারণত ঝাল খান না।
৯. বিদেশী জামাতকে রোখ দেওয়া যেখানে টয়লেট ও ওজুখানা মসজিদের সাথে লাগোয়া এবং পরিচ্ছন্ন, টয়লেটের ভেতরেও পানির ব্যবস্থা আছে, পানির কল ঠিক আছে এমন মসজিদে।
১০. টয়লেটের ক্ষেত্রে মাজুর সাথীদের দিকে খেয়াল রাখা। এর জন্য প্রয়োজনে কমোডের ব্যবস্থা করা।
১১. বিদেশী মেহমানদের জন্য খাবার পানির দিকেও লক্ষ্য রাখা। যে কোন পানি তারা খেতে পারেন না।
১২. যেসকল মসজিদের সাথে মাদ্রাসা আছে সেসকল মসজিদে বিদেশী জামাত না দেওয়া। বর্তমান হালত তো কারণ হিসাবে আছে, এছাড়াও আগে থেকেই এটা নিষেধ ছিল।
১৩. শীত কালে বিদেশী জামাতের জন্য গরম পানির ব্যবস্থা রাখা।
১৪. কোন মাদ্রাসায় গাস্ত করার আগে ঐ মাদ্রাসাতে কথা বলে নেওয়া। যদি তারা রাজি হয় তাহলে সেখানে জামাতের সাথী নেওয়া তা না হলে না নেওয়া।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
জেলার তাকাজাঃ
জেলার মেহনতের ক্ষেত্রে লক্ষনিয় যে, জেলাতে যদি কোন তাকাজা চালাতে হয় তাহলে জেলার জিম্মাদার সাথীদের চালাতে হবে, তাহলে তাকাজা কাবুতে আসবে।
সাধারণ সাথীদের দিয়ে তাকাজা চালালে ঐ তাকাজা কাবুতে আসবে না। সাধারণ মানুষ তাকাজা বুঝলেও কোন কাজ হবে না।
মস্তুরাতের পয়েন্টে কথা বলানোর জন্য মস্তুরাতে ২ মাস লাগিয়েছে এমন সাথীদের দিয়ে বলানো। তাহলে মজমাতে তাসির পড়বে, আর তখনই সাথীরা তাসকীল হবে।
প্রত্যেক থানার সাথীরা জেলার সাপ্তাহিক মাশোহারাতে জুড়বে।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মাও. মুনির বিন ইউসূফ:-

No comments: