মাশোহারা কেমন হওয়া দরকার
হুজুর সাঃ এর মজলিশে একদিন একটি প্রশ্ন করেছিলেন, সেখানে উপস্থিত কোন সাহাবী ঐ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। ওখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর জানতেন, কিন্তু আদবের কারণে তিনি তখন উত্তর দেননি। পরে বাড়িতে যেয়ে ওমর রাঃ কে বলেন যে আমি ঐ প্রশ্নের উত্তর জানতাম, কিন্তু আদবের কারণে বলিনি। এই ছিল আমাদের আকাবীরদের আদবের নমুনা।
এজন্য আমাদের এতায়াত ও এহতেমাত থাকতে হবে। বড় ছোট পার্থক্য থাকতে হবে যেন ছোটরা বড়দের সম্মান করে আর বড়রা ছোটদের কিভাবে আগে বাড়বে তা শেখায়। আমাদের মধ্যে আজ মানামানি নেই। এজন্য বড়দের মানতে হবে, সম্মান করতে হবে।
দ্বীন হলো অন্যের জন্য ভালাই চাওয়া। আমি যদি তাবলীগ করে অন্যের ভালাই না চাই তাহলে আমি আগে বাড়তে পারবো না। অন্য সাথী আগে বাড়ুক এটা আমাকে চাইতে হবে। জেলার মধ্যে অনেক যোগ্য সাথী আছে যাদের দিয়ে মেনত করানো যায়, কিন্তু আমি যখন রায় দিচ্ছি তখন তার পক্ষে দিচ্ছিনা। তাকে দিয়ে মেহনত করালে যদি সে আগে বেড়ে যায়, এধরণের হিংসা আমাদের মধ্যে কাজ করে। এটা মোটেই ঠিক না। দিলের হিংসা দূর করতে হবে, অন্যকে আগে বাড়িয়ে দিতে হবে।
আমাদের নবী সাঃ কারোর উপর কোন জিম্মাদারী দিলে তার কারগুজারী নিতেন, শুধু জিম্মাদারী দিয়েই ছেড়ে দিতেন না। একবার আমাদের নবী সাঃ পাহাড়ের উপর পাহারার জন্য একজন লোক চাইলেন। তখন একজন সাহাবী দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তোমার ঘোড়ায় চড়ে আসো, এরপর ঐ সাহাবী ঘোড়ায় চড়ে আসলেন। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তুমি সারা রাত এই ঘোড়ার উপর চড়ে পাহারা দিবে, জরুরত ছাড়া ঘোড়া থেকে নামতে পারবে না। এরপর ঐ সাহাবী ঘোড়া নিয়ে চলেগেলেন। সকাল হলে রাসূল সাঃ অন্যান্য সাহাবীদের রাঃ বলেন, তোমাদের ভাই কি ফিরেছে, সবাই বলল না, তখন তিনি বললেন, এখনই চলে আসবে, এরপর দূর থেকে একটি কালো ছায়া দেখা যাচ্ছিল, কাছে আসলে সবাই তাকে চিনতে পারলো। ফিরে আসলে আমাদের নবী সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি কি ঘোড়া থেকে নেমেছো? ঐ সাহাবী বললেন, আমি নামাজ ও জরুরতের জন্য ছাড়া ঘোড়া থেকে নামিনি। তখন রাসূল সাঃ বলেন, তোমার উপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে।
আল্লাহ যখন জিব্রাইল আঃ কোন অহি দিয়ে পাঠাতেন তখন একা পাঠাতেন না। আরো ফেরেশতা সাথে পাঠাতেন যেন যে কথা পাঠানো হয়েছে তা কম বেশি না হয়ে যায়। হযরতজি মাও. সাদ সাহেব দা: বা: সবাইকে না নিয়ে কোন ফয়সালা করেন না। একদিন এক মাশোহারার পর কিছু সাথী চলে যায়। এরপর আরও একটা তাকাজা আসলো, সবাই বলল, হযরত ফয়সালা করে দেন, কিন্তু তিনি ফয়সালা করলেন না, তিনি যেসকল সাথীরা চলে গেছে তাদের ডেকে পাঠালেন, তারা আসলে এরপর ফয়সালা করলেন। তাই আমরাও আফরার কোন ফয়সালা করবো না। একবার বাংলাদেশের কোন ব্যক্তি বা জেলার বিষয়ে মাও. জামশেদ সাহেবের কাছে মাশোহারা পেশ করা হয়, তিনি তখন বাংলাদেশে সফর করছিলেন তখন তিনি একা একা ফয়সালা না করে মাশোহারার তাকাজা লিখে নিয়ে নিজামুদ্দীনে চলে যান, বলেন ফয়সালা নিজামুদ্দীন থেকে হবে। তেমনি ভাবে কাকরাইলের মুরব্বীগণও কোন জেলায় যেয়ে ফয়সালা দেন না, কাকরাইলে ফিরে যেয়ে মাসোহারা করে ফয়সালা জানিয়ে দেন। মাশোহারা, মাশোহারার তাকাজা, মাশোহারার ফয়সালা এ নিয়মেই হবে। রাসূল সাঃ সাহাবী রা: দের নিয়ে যখন মাশোহারা করতেন ঐ মাশোহারা মানার কারণে সাহাবীগণ যে নেকি পেতেন এভাবে যদি আমরা মাশোহারা করি তাহলে ঐ পরিমাণ নেকি আমরাও পাবো। তাই মাশোহারা করতে হবে সবাইকে সাথে নিয়ে। কোন জায়গাতে যখন যাওয়া হয় যেমন কোন থানা বা ইউনিয়ন, তখন সকল সাথি যায় না, প্রতিনিধি হিসাবে কয়েকজন যায়, আর মাশোহারাতেতো সবাই উপস্থিত থাকে, এখানে তাকাজা উঠিয়ে সবার মত নিয়ে ফয়সালা করা।
মাশোহারা খুবই গরুত্বপূর্ণ আমল। এটা যত সহি হবে মাশোহারা করনেওয়ালাগণ তত বেশি নেকি পাবেন। আর ইসরার না করা। হযরতজি মাও. সাদ সাহেব বলেন, নিজের রায়কে ভুলে যাও। যে ফয়সালা হবে সেটার ওপরই জমতে হবে। কাকরাইল থেকে ফয়সালা আসবে তা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এ নিয়ে মাশোহারা করাতে হবে, কোন ফয়সালা বাদ দেওয়ার জন্য, বা এটােএখন করবো আর এটা এখন করবো না এরকম কোন কোন মাশোহারা করা যাবে না। মাশোহারাতে রায় দিতে যেয়ে অনেক সময় বয়ান হয়ে যায়, এটা করা যাবে না, মওজুর উপর থেকে মুখতাসার রায় দেওয়া।
এজন্য আমাদেরও মাশোহারা মেনে বেশি বেশি মেহনত করে প্রতি বছর চারমাস এবং বিদেশে ৫ মাস এর জন্য তৈরি হতে হবে। শতভাগ তিন চিল্লার সাথীদের বিদেশ সফরের জন্য তৈরি করতে হবে।

No comments: